বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মশার কামড়ে অসহায় সিলেট নগরবাসী

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০১৯

মশার কামড়ে অসহায় সিলেট নগরবাসী

সিসিক এখন মশাময়। নগরজোড়ে মশক বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য বিস্তার ঘটলেও মশার রাজ্যে অসহায় এখন নগরবাসী। শুধু রাত নয়, দিনেও কামড় থেকে ডাকু মশা রেহাই দিচ্ছেনা কাউকে।

নগররাজ্যে মশকবাহিনীর অত্যাচারের কাছে জিম্মি খোদ নগরভবনের কর্তা। নাগরিক দুর্ভোগের এই বিষয়টি নাড়াতে পাড়ছেনা নগরকর্তাকে। ফলে ভাবলেশহীন নগর কর্তৃপক্ষ।

এই মশা শুধু এখন বস্তি কিংবা নোংড়া জায়গায় নয়, আসছে বিলাসবহুল এপার্টমেন্টেও। তাছাড়া, দিনে রাতে অফিস-আদালত থেকে শুরু করে জনারণ্যের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে মশক বাহিনীর অত্যাচার চোখে পড়ছেনা।

৭ তলার ওপরেও চলছে মশার উপদ্রব।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই মশক বাহিনীর কাছে হার মানতে হয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষকে। ঐদিন মশক বাহিনীর বেশি দাপট থাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড্ডয়নে দুই ঘণ্টা দেরি হয়।

গবেষকরা বলছেন, সারা পৃথিবীতে অন্তত সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে পাওয়া গেছে ১২৩ প্রজাতির মশার অস্তিত্বের সন্ধান। মশা দিন দিন সংখ্যায় বাড়ছে, খুঁজছে খাবার।

বাসার মশা ও তার বিচরণের ওপর দীর্ঘ গবেষণায় জানা যায়, একটি প্রজাতি ছাড়া বাকি সবগুলোই রক্তচোষক। এসব প্রজাতির আবার শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই রক্তখেকো।

কয়েক বছর আগেও ভবনের উঁচুতলায় মশা ছিল না। কিন্তু অতিষ্ঠ নগরবাসী জানাচ্ছেন, ৭ তলাতেও নাকি মশার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। মশার প্রজননে আদর্শ তাপমাত্রা ১৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ মৌসুমের তাপমাত্রাও তেমন। শীতের অনাবৃষ্টি, নগরীর ঘিঞ্জি পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, খাল-জলাশয়ের বদ্ধ পানি, ডোবা-নালার যত্রতত্র কচুরিপানা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব- সব মিলিয়ে মশার প্রজননের উর্বর ও অনুকূল পরিবেশ এখন সিলেটজুড়ে। মশা মারতে কিংবা এর ‘জন্ম নিয়ন্ত্রণে’ সিলেট সিটি করপোরেশনের যেসব ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তাও নেই বললেই চলে।

মশা নিধনে চলতি বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফোন রিসিভ করেননি সিসিক মেয়র।

সিসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ধ্রুব পুরকায়স্থ বলেন, মশার ওষুধের কোনো সংকট নেই। মশার ঔষুদের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কে দ্বায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে নাই। ওষুধের মানও যথেষ্ট নিশ্চিত হয়ে সংগ্রহ করা হয়। এরপর তা কাউন্সিলদের মাধ্যমে নগরীতে ওষুধ ছিটানো হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনেরই প্রয়োজনীয় মশার ওষুধ তিন বছর ধরে সরবরাহ করছে তাজুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজ।

ওষুধ কেনার পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওষুধের মান যাচাই করা হয় বলে সিসিক সুত্রে জানা যায়। এর পর ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে ওষুধ দিয়ে দেওয়া হয়। মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হয় সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলা। সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে লার্ভিসাইডিং ওষুধ ছিটাতে হয়। সন্ধ্যায় ছিটাতে হয় এডাল্টিসাইডিং ওষুধ।

নগরীর ফাজিল চিশত এলাকার বাসিন্দা ও শাবি প্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন চৌধুরী শিশির বলেন, মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ট,হোক সেটা বাসা অথবা অফিস,দিন রাত সমান পাল্লা দিয়ে মশার যন্ত্রনা।সিসিক কি করে বুজে উঠতে পারি না।মশার ওষুধ কবে মারা হয়েছিলো আমার মনে হয় সিসিকেরও মনে নেই।জনপ্রতিনিধিরাও মনে হয় উদাসীন।

X